ব্যাংকে ১ লাখ টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক ৮০০

আমার ক্যাম্পাস, ঢাকা: ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ১ লাখ টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক বাড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন।

এত দিন বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসাবে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত থাকলে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হতো না। এখন ১ লাখ টাকার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে।

ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে আবগারি শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) দিতে হবে ৮০০ টাকা, যা বর্তমানে রয়েছে ৫০০ টাকা। আর ১০ লাখের ওপর থেকে এক কোটি টাকায় বর্তমানে দেড় হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এখন তা বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে। এক কোটির ওপর থেকে পাঁচ কোটি রাখার ক্ষেত্রে বর্তমানে আবগারি শুল্ক দিতে হয় বছরে সাড়ে সাত হাজার টাকা। শুল্কহার বাড়ানোয় দিতে হবে ১২ হাজার টাকা। আর পাঁচ কোটি টাকার ওপরে থাকলে এক বছরে আবগারি শুল্ক ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। বছরে একবার এই হার কাটা হবে।

ঘূর্ণিঝড় মোরা: কক্সবাজার-রাঙামাটিতে ৭ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে ও গাছ চাপা পড়ে কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাঁচজন ও রাঙামাটিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় তাণ্ডবলীলা শুরু করে বেলা ১২টা নাগাদ কুতুবদিয়া দিয়ে শেষ করেছে এর প্রস্থান।

এসময় থেমে থেমে ৮০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে আঘাত হানে মোরা। বাতাসের তোড়ে সাগর উত্তাল থাকলেও সকালে সাগরে ভাটা থাকায় ব্যাপক প্রাণহানী থেকে বেঁচে গেছেন কক্সবাজারবাসী।

কিন্তু এরপরও মোরার তাণ্ডবে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কক্সবাজার উপকূলের সোয়ালাখেরও বেশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর।

উপড়ে পড়েছে অগণিত গাছপালা। ব্যাপকহারে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়ি-ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে এবং ঘরের চালায় গাছ পড়ে কক্সবাজারে মারা গেছেন নারীসহ ৫ জন।

তারা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেডিঘাট এলাকায় বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওলা এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫), একই উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০), পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুল হাকিম সওদাগর (৫৫), এবং সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে শাহিনা আকতার (১০)। এসময় আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক লোকজন। তাদের জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার ভয়াবহতায় বসতঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে রাঙামাটি শহরে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছেন।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা মাহিমা (১৪) এবং অপর নারী হাজেরা বেগম (৪৫)। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে তাদের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু তৈয়ব মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তী এলাকায় বসত ঘরের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে গাছ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দ্জুনই মারা যায়। এছাড়া জুনায়েদ নামে এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বসতঘর ও রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ পালা। ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন কেবিল টিভির লাইন ও টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙামাটি শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

প্রাইভেট ব্যাংকের এমডিরা কে কত টাকা বেতন পান

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন আলী রেজা ইফতেখার। ২০০৭ সাল থেকেই এ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১৬ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে তার বেতন-ভাতা ছিল ২ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ১৯৪ টাকা। এ হিসাবে বেতন-ভাতা বাবদ আলী রেজা ইফতেখারকে প্রতি মাসে গড়ে ১৭ লাখ ১ হাজার ৯৯ টাকা দিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ বেতন-ভাতাপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী। এর আগে ২০১৫ সালেও ১ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৮ টাকা বেতন-ভাতা নিয়ে দেশী ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতনধারী প্রধান নির্বাহী ছিলেন আলী রেজা ইফতেখার।

দেশী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন-ভাতা পান দ্য সিটি ব্যাংকের সোহেল আরকে হোসেন। উচ্চবেতন-ভাতায় শীর্ষ ১০ প্রধান নির্বাহীর মধ্যে এর পরের স্থানগুলোয় রয়েছেন যথাক্রমে— মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আনিস এ খান, ব্যাংক এশিয়ার মো. আরফান আলী, এক্সিম ব্যাংকের ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া, আইএফআইসি ব্যাংকের এম শাহ আলম সারওয়ার, উত্তরা ব্যাংকের মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ফরমান আর চৌধুরী, ওয়ান ব্যাংকের এম ফখরুল আলম ও ব্র্যাক ব্যাংকের সেলিম আরএফ হোসেন।

প্রধান নির্বাহীদের বার্ষিক বেতন-ভাতার পরিমাণ ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হয়। দেশের সরকারি-বেসরকারি ৪৮টি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দ্য সিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী সোহেল আরকে হোসেন গত বছর বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংক থেকে পেয়েছেন ১ কোটি ৭৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অর্থাত্ প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।

প্রধান নির্বাহীর বেতন-ভাতা বাবদ তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী আনিস এ খান ২০১৬ সালে বেতন-ভাতা বাবদ পেয়েছেন ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে বেতন-ভাতা বাবদ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক প্রতি মাসে এ ব্যাংকারকে পরিশোধ করেছে গড়ে ১৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৫ সালে প্রধান

নির্বাহী হিসেবে আনিস এ খান ১ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়েছিলেন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন আনিস এ খান।

প্রধান নির্বাহীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, একজন প্রধান নির্বাহীকে একটি ব্যাংকের সবকিছু নখদর্পণে রাখতে হয়। কারণ ব্যাংকের যেকোনো ভালো-মন্দের দায়দায়িত্ব প্রধান নির্বাহীর ওপর বর্তায়।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে প্রায় তিন দশক চাকরি করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন ব্যাংকার এমডির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সে সময় এমডিরা ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকর্তা না হয়ে বরং চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। এ কারণে এমডিরা নির্দিষ্ট বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। এমডিদের কোনো প্রভিডেন্ট ফান্ড নেই। এছাড়া বেতন থেকে উচ্চহারে সরকারকে কর পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে ব্যাংকের এমডিদের বেতন-ভাতা অন্যান্য খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শীর্ষ নির্বাহীর বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। প্রধান নির্বাহী মো. আরফান আলী গত বছর বেতন-ভাতা হিসেবে ব্যাংকটি থেকে পেয়েছেন ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এ হিসাবে ব্যাংক এশিয়া থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৩ লাখ ৭ হাজার টাকা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন এ ব্যাংকার।

২০১৬ সালে উচ্চবেতনভুক্ত প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন এক্সিম ব্যাংকের ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। এক্সিম ব্যাংক গত বছর প্রধান নির্বাহীর বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় করেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ব্যাংক থেকে বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। ২০১৫ সালে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকটি শীর্ষ নির্বাহীর বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় করেছিল ১ কোটি ২২ লাখ টাকা।

এক্সিম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর প্রায় সমপরিমাণ বেতন পেয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি ও সিইও এম শাহ আলম সারওয়ার। বেতন-ভাতা বাবদ ২০১৬ সালে তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ হিসাবে আইএফআইসি ব্যাংক প্রধান নির্বাহীর বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় করেছে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রতি মাসে গড়ে ১১ লাখ ২৯ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়েছেন উত্তরা ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন। ২০১৬ সালে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বেতন-ভাতা নিয়ে উচ্চবেতনভুক্ত শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছেন তিনি।

শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন ফরমান আর চৌধুরী। বেতন-ভাতা বাবদ গত বছর ব্যাংকটি থেকে তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি মাসে তিনি গড়ে বেতন-ভাতা পেয়েছেন ১১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

প্রতি মাসে গড়ে ১১ লাখ ১১ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়েছেন বেসরকারি খাতের ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. ফখরুল আলম। ২০১৬ সালে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংকটি থেকে তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। উচ্চবেতনভুক্ত দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে তার অবস্থান নবম।

বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেলিম আরএফ হোসেন। ২০১৬ সালে ব্যাংকটি থেকে তিনি বেতন-ভাতা বাবদ আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন ১ কোটি ৩৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে ব্র্যাক ব্যাংক প্রধান নির্বাহীকে বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করেছে ১১ লাখ ৯ হাজার টাকা।

শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন-ভাতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এক ব্যাংকের এমডি কিংবা ডিএমডিকে উচ্চবেতন দিয়ে অন্য ব্যাংক টেনে নিয়ে যাচ্ছে। টানাটানির কারণে ব্যাংকের এমডিদের উচ্চবেতন দিতে হচ্ছে। ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়া ও যোগ্য প্রধান নির্বাহী সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই এমডিদের বেতন বাড়াচ্ছে পর্ষদ।

তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকের এমডিদের বেতন-ভাতা নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। একটি ব্যাংকের এমডির বেতন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত হবে, নীতিমালায় তার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকতে পারে। কারণ ব্যাংক এমডিদের বিদ্যমান বেতন দেশের কোনো বেতন কাঠামোর সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

দেশের বেসরকরি খাতের প্রায় সব ব্যাংকই প্রধান নির্বাহীদের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালে ১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এমডি মো. হাবিবুর রহমান ১ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি কাজী মসিহুর রহমান ১ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার, এবি ব্যাংকের এমডি মশিউর রহমান চৌধুরী ১ কোটি ২৯ লাখ, ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ১ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ও যমুনা ব্যাংকের এমডি শফিকুল আলম ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রধান নির্বাহীদের বেতন-ভাতা বাবদ মাসে গড়ে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে এ ব্যাংকগুলো।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে সাইথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি সহিদ হোসেন ১ কোটি ১৯ লাখ ৭৫ হাজার, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. শফিকুর রহমান ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৪ হাজার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক এমডি মোহাম্মদ আলী ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ১ কোটি ১১ লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি খন্দকার ফজলে রশিদ ১ কোটি ৮ লাখ, প্রাইম ব্যাংকের এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী ১ কোটি ৭ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সাবেক এমডি কে শামসি তাবরেজ ১ কোটি ৬ লাখ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মো. আবদুল হালিম চৌধুরী ১ কোটি ৫ লাখ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এমডি সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী ১ কোটি ৩ লাখ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক এমডি এএফএম শরিফুল ইসলাম ১ কোটি ১ লাখ টাকা বেতন-ভাতা হিসেবে নিজ নিজ ব্যাংক থেকে পেয়েছেন।

নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়েছেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবুর রহমান। গত বছর তিনি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ৫ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পেয়েছেন। বেশি বেতন-ভাতার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান-উজ জামান। ২০১৬ সালে তিনি ব্যাংকটি থেকে বেতন-ভাতা বাবদ ১ কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এছাড়া সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের এমডি মো. রফিকুল ইসলাম ১ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ও এনআরবি ব্যাংকের সাবেক এমডি মুখলেসুর রহমান ১ কোটি ৭ লাখ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, সরকারি-বেসরকারি যেকোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকেই নিয়োগ দেয়া হয়। কোনো ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করে এমডি নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন পাঠালে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই করে নিয়োগ অনুমোদন করে। এক্ষেত্রে এমডিদের বেতন কত হবে, সেটিও ব্যাংকের পক্ষ থেকেই নির্ধারণ করা হয়। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিকপক্ষ থেকে এমডিদের বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো আবেদন জানালে সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যালোচনা করে দেখবে।

 

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ, খালেদার সঙ্গে যে কথা হয়েছে ইইউ প্রতিনিধিদের

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের বৈঠক সম্পন্ন।সোমবার বিকেল ৫টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, কূটনৈতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এমপিকে শাসন করেছি: ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনকে শাসন করেছি। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের বিষয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি।’টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে চড় মারা-সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর যুগান্তরকে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনকে শাসন করেছি। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের বিষয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি।’টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে চড় মারা-সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর যুগান্তরকে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনকে শাসন করেছি। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের বিষয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি।’টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে চড় মারা-সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর যুগান্তরকে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

৫ জানুয়ারি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছি: রকিবউদ্দিন

ঢাকা: সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছাড়া কমিশনের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছি।বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।

নির্বাচন অনেকটাই ‘রাজনীতির খেলা’: বিদায়ী সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদের অধিকাংশ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে ‘রাজনীতির খেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারের সম্মেলনেকক্ষে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলন তিনি এ মন্তব্য করেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে রকিবউদ্দীন বলেন, সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচন করা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে যায়। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

সার্চ কমিটিতে নামের তালিকা জমা আ.লীগের সার্চ কমিটিতে নামের তালিকা জমা আ.লীগের

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটিতে ৫ সদস্যের নামের তালিকা জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব বরাবর চিঠির মাধ্যমে নামের তালিকা জমা দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটিতে ৫ সদস্যের নামের তালিকা জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব বরাবর চিঠির মাধ্যমে নামের তালিকা জমা দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটিতে ৫ সদস্যের নামের তালিকা জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব বরাবর চিঠির মাধ্যমে নামের তালিকা জমা দেয়া হয়।

image missing image missing