জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি শুরু ২৪ আগস্ট

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহে আগামী ২৪ আগস্ট থেকে অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ১৫ অক্টোবর।

সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সাধারণ এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ সম্মান ভর্তি কার্যক্রম শুরু, আসন সংখ্যা, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় উপ-উপাচার্য চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. নোমান উর রশীদ, সকল ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক আইসিটি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কমিটি গঠন

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির ২০১৭-২০১৯ সালের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন গত শনিবার রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত সমিতির নিজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ কবির হোসেন। কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক শফিক আহমেদ সিদ্দিক, বেনজীর আহমেদ, কে বি এম মইন উদ্দিন চিশতি, কাজী আনিস আহমেদ, মো. সবুর খান, কাজী রফিকুল আলম, আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ, এ কে এম এনামুল হক, এ কে এম নুরুল ফজল, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম), এম এ মোমিন, সাদাফ সাজ সিদ্দিক, ইসতিয়াক আবেদীন, মো. রেজাউল করিম, মো. খলিলুর রহমান, কে এম আখতারুজ্জামান, চৌধুরী নাফিজ শরাফত। বিজ্ঞপ্তি

বিসিএস আবেদনে এনআইডি বাধ্যতামূলক

আমার ক্যাম্পাস রিপোর্ট: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) আবেদন করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদন ফরমে এনআইডি নম্বর দেওয়া ছাড়া কেউ বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। বৃহস্পতিবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যেসব পরিক্ষার্থীর কাছে এখনও এনআইডি নেই তাদের জন্য বিকল্প চিন্তা করছে পিএসসি।

৩৮তম বিসিএস থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩৮তম বিসিএস থেকেই পরীক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

পিএসসি চেয়াম্যান জানান, একটা সিম কিনতে বা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে যদি এনআইডি লাগে, তাহলে বিসিএস পরীক্ষা দিতে কেন আইডি নম্বর চাইব না?

দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৭ লাখ নাগরিকের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র নাই। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিকের হাতে এনআইডি পৌঁছে না দেওয়া পর্যন্ত এটি বাধ্যতামূলক না করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, যারা বিসিএস পরীক্ষা দেবে তাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে নয়। ফরমে যদি শুধু নাম আর ছবি লাগিয়ে আবেদন করা হয়, তখন কেউ যদি ছবি বদলে ফেলে- আপনি তো তাকে চিনতে পারবেন না। সেই দিকটা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কারো এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।

তিনি জানান, পিএসসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি সবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ এটি ভালোর জন্য করা হচ্ছে। এটি করা হলে সবাইকে শনাক্ত করা সুবিধা হবে।

দেশের ১ কোটি ১৭ লাখ নাগরিকের হাতে কোনো এনআইডি নেই এই মূহুর্তে পিএসসির এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ বলেন, যারা বিসিএস পরীক্ষা দেবে তাদের বয়স ২৫ বছর বা তার বেশি। সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যদি কেউ সত্যি অর্থে এই সমস্যায় পড়ে তাহলে কমিশনে আসলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।

চলতি মাসেই দুই হাজার একশ পদে নিয়োগ দিতে ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ৩৮তম বিসিএস থেকেই পরীক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় ৯০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়াবলীর মধ্যে আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে বলেও জানান পিএসসি চেয়ারম্যান।

উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তিতে ২৮০ প্রতিষ্ঠানে কেউ আবেদন করেনি

আমার ক্যাম্পাস রিপোর্ট: কারিগরি শিক্ষা উন্নয়নে সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এতে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে অনীহা রয়ে গেছে। যার বাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে একাদশে ভর্তির কার্যক্রমে। ১৫৪টি সরকারি-বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে একটিও ভর্তির আবেদন জমা পড়েনি।

অন্যদিকে মাদরাসায়ও শিক্ষার্থী ভর্তির হার কম লক্ষ করা গেছে। ৭১টি মাদরাসায় কেউ আবেদনই করেননি। একই ভাবে ৫৫টি কলেজেও আবেদন সংখ্যা শূন্য। সর্বমোট ২৮০টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কেউ আবেদন করেননি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কারিগরি ও মাদরাসা ছাড়াও কেউ আবেদন করেনি এমন অন্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ১৬টি, যশোর বোর্ডে সাতটি, কুমিল্লা বোর্ডে দুটি, বরিশাল বোর্ডে তিনটি, দিনাজপুর বোর্ডে একটি, রাজশাহী বোর্ডে ২৬টি কলেজ রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ৮৩ হাজার ৬০৩ জন পাস করেন। একজন শিক্ষার্থীর ১০টি কলেজে আবেদন করার সুযোগ অনুযায়ী ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮৯টি আবেদন করা হয়েছে। সারাদেশে ১ হাজার ৮৮৭টি কারিগরি কলেজের মধ্যে প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৫৭০ জন। আবেদনকারীদের মধ্যে ৫৭৪ জন ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাকি।

অন্যদিকে ১৫৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কেউ আবেদনই করেনি। ৪৭৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাত্র ১০ জন করে আবেদন করেছে। ২০ জন আবেদন করেছে এমন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭০৫টি। সে হিসেবে সারাদেশের প্রায় অর্ধেক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে।

যত্রতত্র কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং সেগুলো মানহীন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার বিষয়টি স্বীকার করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান অনেক, কিন্তু মানসম্মত নয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হচ্ছে না।

তিনি বলেন, শূন্য আসন পূরণে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভর্তি চলমান রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে নতুনভাবে আবারও ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এদিকে মাদরাসা বোর্ডের ৭১টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী শূন্য রয়েছে। ২ হাজার ৭৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০ জন করে আবেদন করেছে ১৯৬টি ও ২০ জন আবেদন করেছে ৬৭৫টি মাদরাসায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে।

যদিও মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম ছায়েফ উল্যা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবেন। শিক্ষার্থী শূন্য থাকলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দশ বোর্ডের মাত্র ৩৩৭টি কলেজের সব আসন পূর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১১১টি, চট্টগ্রামে ৩৮টি, যশোরে ১৭টি, কুমিল্লায় ৪৫টি, বরিশালে ১৩টি, দিনাজপুরে ১৯টি, সিলেটে ১৭টি, রাজশাহীতে ৩৩টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৪টি কলেজ রয়েছে। তবে একটি মাদরাসায়ও আসন পূর্ণ হয়নি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ভালোমানের কলেজের সংখ্যা কম থাকায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফল পেয়েও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম তালিকায় স্থান পাননি ৬১ হাজার ৯৯ জন ভর্তিচ্ছু। এমনকি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তিন হাজার ৮৯১ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকায় স্থান পাননি। আর দশ শিক্ষা বোর্ডে প্রথম তালিকায় স্থান পাননি মোট পাঁচ হাজার ৯৪৬ জন জিপিএ-৫ ধারী।

সারাদেশে আসন সংখ্যা কমের জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি বরং আসন পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু পছন্দের প্রতিষ্ঠান রয়েছে কম। দেখা গেছে, কলেজের অবকাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় সারাদেশের দুই হাজার ৬৪০টি কলেজে একজন থেকে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। এসব কলেজ পাঁচজন বা দশজন করে শিক্ষার্থী ভর্তি নিলে প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কলেজগুলো একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারে বলেও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের হিসাবে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় সারাদেশে এমন কলেজ রয়েছে ৯ হাজার ১৫৮টি। এসব কলেজে আসন রয়েছে ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৯টি। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মোট ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন। এর মধ্যে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন ১৩ লাখ দশ হাজার ৯৪৭ জন। ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জন। প্রথম পর্যায়ে ৬১ হাজার ৯৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হননি। আর ১২ হাজার ৭৭৫জন শিক্ষার্থী কোনো প্রতিষ্ঠানেই ভর্তির আবেদন করেননি।

এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আশফাকুস সালেহীন বলেন, ‘যারা প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়নি তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছে, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবে। তবে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। সবাই ভর্তির সুযোগ পাবে। কারণ সারাদেশের কলেজে ২৮ লাখ ৬২ হাজার আসন রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ৪ জুন (রোববার) রাতে কলেজে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগামী ১৩ জুন দ্বিতীয় এবং ১৮ জুন তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে।

পাঠ্যবই সর্বরাহে দেরি: দেড়শ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি টাকা জরিমানা

আমার ক্যাম্পাস রিপোর্ট: চলতি বছরের পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ করেনি প্রায় দেড়শ’ মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকে মার্চ মাসেও বই পায়নি। সরকার ও শিক্ষার্থীদের বেকায়দায় ফেলা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিআর) অনুযায়ী অন্তত ৩৫ কোটি টাকা জরিমানা হওয়ার কথা। কিন্তু জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি অংশ রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের পার করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১০ কোটি টাকা জরিমানা মওকুফও করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে এখন প্রায় ২৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

জরিমানার বিষয়টি শিকার করে প্রকাশকরা বলছেন, এনসিটিবি একই ইস্যুতে দু’ধরনের আচরণ করছে। প্রাথমিক স্তরের কাজে শীষাসাইসহ তিনটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান বিলম্বে বই দিলেও তাদের জরিমানা করা হয়নি। দেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করুক তা চায় না বলেই এনসিটিবি এমন আচরণ করছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আসলে জরিমানা নয়, ছাপা কাজে নানান ক্রটির কারণে পিপিআর অনুযায়ী কাজের বিল দেয়ার সময় অর্থ কেটে নেয়ার নিয়ম আছে। আমরা সেটাই করছি। কাউকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। নিয়মমাফিক বিল থেকে সে অর্থ কাটা হচ্ছে।`

প্রতিবছর জরিমানাভুক্ত মুদ্রণকারীদের বেশি কার্যাদেশ দেয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, কাজের অর্ডার হয় টেন্ডাররের মাধ্যমে। এনসিটিবি ইচ্ছে অনুযায়ী কেউ কাজ পায় না।

এনসিটিবি এবার ৭ স্তরে বই মুদ্রণে কার্যাদেশ দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বই, ইবতেদায়ী, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি এবং মাধ্যমিক। প্রত্যেক স্তরেই কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কমবেশি জরিমানা হয়েছে। বিলম্বে বই সরবরাহ, নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানো, বাঁধাই ও ছাপার নিম্নমান- এ চার অপরাধেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরে এবার মোট ৩১টি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। এর মধ্যে তিনটি ভারতীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। দেশি বাকি ২৮টির মধ্যে ২৬টিই জরিমানার শিকার হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৬ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে সরকার গ্রুপকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আনন্দ প্রিন্টার্স ও একই ব্যক্তির মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। ব্রাইট প্রিন্টার্স ও একই প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বমোট প্রায় ৫৭ লাখ টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে। এভাবে বাকি ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা ধরা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকার গ্রুপের অন্যতম স্বত্বাধিকারী দুলাল সরকার দাবি করেন, এ জরিমানা তাদের প্রাপ্য নয়। কেননা তারা যে বইয়ের কার্যাদেশ দেরিতে পেয়েছেন, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের অনুরোধে তার ডেলিভারি আগে দিতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের অনুরোধ রাখতে গিয়ে এখন তারা জরিমানার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

মাস্টার্সে ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ ১৩ জুন

আমার ক্যাম্পাস রিপোর্ট: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স (প্রফেশনাল) এলএলবি ১ম পর্ব/ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম/ পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্স/এমএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স/মাস্টার অব বিজনেস্ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ)/এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং কোর্সসমূহের ভর্তি কার্যক্রমে মেধা তালিকা ১৩ জুন প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়জুল করিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উক্ত ফল বিকাল ৪টা থেকে এসএমএসের মেসেজ অপশনে গিয়ে nuatpmroll no লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করে ফল জানা যাবে। এছাড়া রাত ৯টায় ওয়েবসাইট www.nu.edu.bd/admissions অথবা admissions.nu.edu.bd থেকে ফল পাওয়া যাবে। এ ভর্তি কার্যক্রমের ক্লাস ১৬ জুলাই থেকে শুরু হবে।

মাস্টার্স ১ম পর্ব পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের মাস্টার্স ১ম পর্ব পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আগামি ১৫ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২১ মে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য নিয়ম ও শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে। বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

যেভাবে একাদশে ভর্তির রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেবেন

আমার ক্যাম্পাস, ঢাকা: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথমধাপে ১৩ লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্যে ভর্তির জন্য ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। রোববার রাত ১২টার পর সকল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।

ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন বলেন, প্রথম তালিকায় যাদের নাম নেই তাদেরকে ১৩ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পরে ভর্তির জন্য আরেক দফা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে চান্স না পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দক্রম সংশোধন করতে পারবে। যারা ভর্তির আবেদনই করেনি তারাও আবেদন করতে পারবে।

ভর্তির তালিকায় যাদের নাম এসেছে তাদের ভর্তি নিশ্চয়তার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে টেলিটক, রকেট ও শিওরক্যাশ এই তিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছুরা রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন ফি দেয়ার নিয়ম দেখুন নিচে

উচ্চ মাধ্যমিকে এবার আসন খালি থাকবে ১৫ লাখ!

আমার ক্যাম্পাস, ঢাকা:শিক্ষার্থী ভর্তির পরও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাড়ে ১৫ লাখ আসন খালি থাকবে। সারা দেশে কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিযোগ্য আসন ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৯টি। এতে এখন পর্যন্ত ভর্তির আবেদন করেছে ১৩ লাখ ১০ হাজার ৯১৪ শিক্ষার্থী। একাদশ শ্রেণীতে আবেদনের ফল আগামীকাল সোমবার প্রকাশ করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এদিকে উচ্চ মাধ্যমিকে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকা সত্ত্বেও একের পর এক কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ২৯ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৫টি কলেজ ও ২ মাদ্রাসা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আরও ৩০টি কলেজ স্থাপনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির আবেদন প্রবণতা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছে সরকারি কলেজ। এরপরের স্থানে আছে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মডেল এবং সামরিক বাহিনী পরিচালিত কলেজগুলো। বাহারি নামের প্রাইভেট কলেজগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এ ধরনের ১৫৪টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে, যেগুলোতে ১০টির কম আবেদন পড়েছে। ৬টি প্রতিষ্ঠানে কেউ আবেদন করেনি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসায় সেই অর্থে আসন তেমন বেশি খালি থাকবে না। সরকার কারিগরি শিক্ষাকে ব্যাপক জোর দিয়েছে। এ কারণে কারিগরি খাতে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বাড়ছে। কারিগরি ক্ষেত্রে ভর্তিতে সরকারের লক্ষ্য পূরণ হলে একটা সময় সার্বিক আসনসংখ্যা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। তবে সরকার এখনও নামসর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে কঠোর। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সম্প্রতি সারা দেশে শতাধিক কলেজ বন্ধ করা হয়েছে।

৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কলেজে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। সারা দেশে ৯,০৮৩টি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে চাহিদার শীর্ষে থাকা ২০টি কলেজের মধ্যে ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে এবার সবচেয়ে বেশি ৪২৬৪৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এ কলেজে আসন আছে এক হাজার ৬৩৮টি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ঢাকা সিটি কলেজ ও ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজ। সিটি কলেজে তিন হাজার ৪৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩৯ হাজার ৩১৬ জন। বাঙলা কলেজে এক হাজার ৭০০ আসনের বিপরীতে ৩৯ হাজার ৫২ জন আবেদন করেছে। চতুর্থ স্থানে রাজশাহী কলেজ। আবেদন পড়েছে ৩৮৯১টি। পঞ্চম স্থানে আছে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ। আবেদন পড়েছে ৩৭ হাজার। ষষ্ঠ স্থানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ৩৬৭৭৭ জন আবেদন করেছে। কবি নজরুল সরকারি কলেজ সপ্তম স্থানে। আবেদন পড়েছে ৩৫৫৭১টি। অষ্টম স্থানে সরকারি আনন্দ মোহন কলেজে প্রার্থী ৩৪৮৯৮। নবম ও দশম স্থানে আছে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ এবং নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী। আবেদন পড়েছে যথাক্রমে ৩১৬৪৫টি ও ২৮৬৭০টি। এভাবে একাদশ থেকে ২০তম স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ (আবেদন ২৬৪৬২টি), ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ (২৫৬৪৪), বিএএফ শাহীন কলেজ (কুর্মিটোলা, আবেদন-২৫৫৪৪) ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ (২৫০৪২), চট্টগ্রামের বাকলিয়া সরকারি কলেজ (২৪৭১৯), সরকারি হাজী মুহম্মদ মুহসিন কলেজ (২৩৫২৭), রংপুর সরকারি কলেজ (২২৬৪১), বগুড়ার সরকারি এএইচ কলেজ (২২২৭৩), চট্টগ্রামের ওমরগঞ্জ এমইএস কলেজ (১৯৮৬৯) এবং চট্টগ্রাম কলেজ (১৭৯৪৭)।

গত বছর কম আবেদন পড়ায় শতাধিক কলেজ-মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডেই আছে ৭৯টি। দাখিলে খারাপ ফল করায় ৫০৮টি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। এরপরও এবার এখন পর্যন্ত ১৫৪টি কলেজে সর্বনিন্ম ১০টি করে আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে ৯৭টিই কারিগরি প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা ৩৯টি। ছয়টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেনি। এগুলো হল- নবাবগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা, মুন্সির তাল্লুক গার্লস আলিম মাদ্রাসা ও মাহমুদপুর রসুলপুর হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা, কুমিল্লার কাছিয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহীর খন্দকার আবু সাঈদ আদর্শ সায়েন্স কলেজ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন আদিবাবাদ ইসলামিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, যে সাড়ে ১৫ লাখ আসন খালি থাকছে তার সবই বিদ্যমান ৯ সহস্রাধিক কলেজ-মাদ্রাসার। ১০টির বেশি কিন্তু ২০টির কম আবেদন পড়া কলেজ-মাদ্রাসা আছে আরও শতাধিক। মূলত এই আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও সরকার ২২-২৯ মে ৫টি কলেজ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে, মানিকগঞ্জের জিয়নপুর বেলায়েত হোসেন কলেজ, হবিগঞ্জের কীর্তি নারায়ণ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লার পীরযাত্রাপুর জোবেদা খাতুন কলেজ, টাঙ্গাইলের আমির উদ্দিন কলেজ এবং রংপুরে উইন্স কলেজ। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে স্থাপনের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দিয়ে প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করে পরের দু’দিনের মধ্যে অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে যে ৩০টি কলেজ স্থাপনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে, সেগুলোর মধ্যে ৫টি স্থাপনের যৌক্তিকতার প্রতিবেদন চেয়ে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে। বাকি ২৫টি কলেজের ফাইল মন্ত্রণালয়ে আছে। এই ২৫টির বেশির ভাগই প্রাইভেট কলেজ। এছাড়া ব্যক্তির নামে স্থাপনের কলেজ আছে কয়েকটি।

ঘূর্ণিঝড় মোরা: কক্সবাজার-রাঙামাটিতে ৭ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে ও গাছ চাপা পড়ে কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাঁচজন ও রাঙামাটিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় তাণ্ডবলীলা শুরু করে বেলা ১২টা নাগাদ কুতুবদিয়া দিয়ে শেষ করেছে এর প্রস্থান।

এসময় থেমে থেমে ৮০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে আঘাত হানে মোরা। বাতাসের তোড়ে সাগর উত্তাল থাকলেও সকালে সাগরে ভাটা থাকায় ব্যাপক প্রাণহানী থেকে বেঁচে গেছেন কক্সবাজারবাসী।

কিন্তু এরপরও মোরার তাণ্ডবে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কক্সবাজার উপকূলের সোয়ালাখেরও বেশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর।

উপড়ে পড়েছে অগণিত গাছপালা। ব্যাপকহারে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়ি-ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে এবং ঘরের চালায় গাছ পড়ে কক্সবাজারে মারা গেছেন নারীসহ ৫ জন।

তারা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেডিঘাট এলাকায় বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওলা এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫), একই উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০), পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুল হাকিম সওদাগর (৫৫), এবং সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে শাহিনা আকতার (১০)। এসময় আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক লোকজন। তাদের জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার ভয়াবহতায় বসতঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে রাঙামাটি শহরে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছেন।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা মাহিমা (১৪) এবং অপর নারী হাজেরা বেগম (৪৫)। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে তাদের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু তৈয়ব মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তী এলাকায় বসত ঘরের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে গাছ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দ্জুনই মারা যায়। এছাড়া জুনায়েদ নামে এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বসতঘর ও রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ পালা। ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন কেবিল টিভির লাইন ও টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙামাটি শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষ, খালেদার সঙ্গে যে কথা হয়েছে ইইউ প্রতিনিধিদের

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের বৈঠক সম্পন্ন।সোমবার বিকেল ৫টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, কূটনৈতিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে এবং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

image missing image missing