পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটালো ড্রিম মোমেন্ট

সুশান্ত বসাক,অামার ক্যাম্পাস: ‘ছবি তুলে দিবো আমরা, ঈদে নতুন জামা পাবে পথশিশুরা’ – এমন শিরোনামই বেছে নিয়েছিলো ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম মোমেন্ট’। বিষয়টা একটু অপ্রচলিত ও ভিন্ন মনে হলেও ঠিক এরকমই একটি উদ্যোগ নেয় ড্রিম মোমেন্ট। আমরা যেমনটা সবসময় বলে থাকি, যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এরকম এক চিন্তা থেকেই তারা এগিয়ে আসে তাদের ক্যামেরাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে ৮, ৯ ও ১০ জুন রমনা পার্কে। তাদের আইডিয়াটা ছিলো এরকম যে, সবসময় তো নিজেদের জন্য, জীবিকার জন্য ছবি তুলেই থাকি। এবার না হয় একটু তাদের জন্যই ছবি তুলি যারা এই সমাজে অবহেলিত, যাদের কাছে ঈদও একটি সাধারণ দিনের মতই। যেই চিন্তা সেই কাজ! ফেসবুকে প্রচারণা শুরু হলো। যে কেউ নিজের ছবি তোলাতে পারবে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে যে কোন পরিমাণ টাকার বিনিময়ে, হোক সেটা ১০০ টাকা বা ১০০০ টাকা। যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন টাকাই দিবে পথশিশুদের জামা কেনার জন্য। সময়মত ছবিও পেয়ে যাবে ই-মেইলের মাধ্যমে। শুধু যে পরিচিত মানুষরা সাড়া দিয়েছে তা নয়, অনেক অপরিচিত মানুষরাও এসেছে মানবিকতার তাগিদে, ঈদের আনন্দটুকু ভাগ করে দিতে।

ব্যাপারটা সত্যিই অসাধারণ! যে কোন মানুষ যে চাইলেই যে কোন জায়গা থেকে ভালো কাজ করতে পারে, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘ড্রিম মোমেন্ট’ এর এই অভিনব উদ্যোগ। থাকতে হবে শুধু প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও ভাল কাজ করার মন-মানসিকতা। তবেই না আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমরা করবো জয় একদিন।

গত ১৫ই জুন, বৃহস্পতিবার ঢাকার পলাশীর মোড়ে ফুটপাতে বসবাসকারী অসহায় ৬০ জন পথশিশুদের মাঝে তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা বিতরণ করে। ড্রিম মোমেন্ট টিমের সবাই মিলে এই সম্পূর্ণ ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করে।

ড্রিম মোমেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ফটোগ্রাফার সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, আমরা যখন এই ক্যাম্পেইনটি পরিকল্পনা করি তখন ভেবেছিলাম হয়তো ৩০ জন পথশিশুকে আমরা নতুন জামা দিতে পারবো, হয়তো মানুষ তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আসতে চাইবে না কিন্তু আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত। আর একইসাথে পরিকল্পনার চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক পথশিশুদের নতুন জামা দিতে পেরে আমরাও আনন্দিত। যেন এটাই আমাদের ঈদের খুশি।

তারা বিশ্বাস রাখে এভাবেই তারা সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে, অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে। এরকম আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা এই দেশটাকে বদলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান। এভাবেই যদি প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে মানুষের জন্য এগিয়ে আসে তবেই মানুষের মধ্যকার বৈষম্য দূর হয়ে একটা সোনার বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে।

এগিয়ে যাচ্ছে লিডসাস

বেনজির আবরার, আমার ক্যাম্পাস: সমসাময়িক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্টানে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এসময়টিতেই বাংলাদেশী তরুণ উদ্দ্যোক্তা সাদিক আল সরকার ২০১৫ তে যেটি এনেছিলেন, সেই লিডসাস প্রকল্পের ব্যাবহার বেড়েই চলেছে। নাম শুনে যারা ভেবে বসলেন ছোট কোনো প্রকল্প তাদের জন্য থাকছে চমক! লিডসাস টিম দেশের বিভিন্ন নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্টানে দিচ্ছে তাদের সেবা,লিডসাসের প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ থাকছে শিক্ষার্থীরা। এবিষয়ে কথা বলতে আমরা মুখোমুখি হই সাক্ষাৎকার পর্বে লিডসাসের চিফ অপারেটিং অফিসার সাঈদ সারোয়ার সাদীর সঙ্গে– সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বেনজির আবরার। পাঠকের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন – “লিডসাস” প্রতিষ্টার কারন??

সাঈদ সারোয়ার সাদী – “বাংলাদেশে বহুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি। এতে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, ঠিক তেমনি সেকেলে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বহাল থাকায় মূল্যবান সময়ের অপচয় হচ্ছে। তাই উন্নত বিশ্বের মতো এদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজন কার্যকরী পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।”একারণেই আমরা ব্যাতিক্রমী এ উদ্দ্যোগ নিয়ে এসেছি।

প্রশ্ন – প্রকল্পটি সম্পর্কে বলুন –

সাঈদ সারোয়ার সাদী – ২০১৫-এর প্রথম দিকের কথা, সাদিক লক্ষ করলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা স্কুল ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ কাজ করছে না। এরপর তিনি দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন যে, তিনি যে সার্ভিসগুলো চাচ্ছেন, তা কেউই একসঙ্গে দিচ্ছে না। পরবর্তীতে সাদিক নিজেই একটি পরিকল্পনা সাজান। কী কী সার্ভিস থাকলে কমপ্লিট ডিজিটাল স্কুল, তথা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি স্কুল গড়া সম্ভব হয়, তা তিনি তালিকাভুক্ত করতে থাকেন।

‘একবিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করলেও কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সক্রিয়তা, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত থাকাসহ আরও নানা সমস্যা আমাদের সমাজে এখনো বিষফোঁড়ার মতোই অবস্থান করছে। একা কখনোই কারো পক্ষে এ সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব না। তিনি জানান, তাই টিম লিডসাস একটি কমপ্লিট কনসেপ্ট নিয়ে এগিয়ে যেতে সম্মত হলো, যেখানে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। এভাবেই মূলত লিডসাস লিমিটেডের যাত্রা শুরু।

প্রশ্ন -সেক্টরটির সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?

সাঈদ সারোয়ার সাদী – ‘‘বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তার পাশাপাশি আধুনিকায়নের ধারণাটি নতুন না হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট না হওয়ায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ। টিম লিডসাস ডিজিটালাইজেশনের সার্বিক সুবিধাগুলো প্রোগ্রাম কাউন্সেলিং ক্যাম্পেইন – এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির ভেতর সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে।’’ যেহেতু, শিক্ষার্থীগণ দেশের ভবিষ্যতের কর্ণধার, সেহেতু তাদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ, সেক্টরটির বিকাশও ঘঠবে এক্ষেত্রে।

প্রশ্ন- সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

সাঈদ সারোয়ার সাদী – ভিন্নধর্মী চিন্তা থেকে সফল হবার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লিডসাস। প্রতিষ্টানটির ভাগ্যে মিলেছেও স্বীকৃতি। ব্যাতিক্রমী চিন্তাভাবনাটির জন্য দেশের মূলধারার বেশকয়েকটি দৈনিক আমাদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিলো লিডসাসের জন্মলগ্নে, বিশ্বাস করি যখন আমাদের কাজ বাড়বে তখন তার কাজের স্বীকৃতি আরো বাড়বে যখন প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানে ছড়িয়ে যাবে “লিডসাস”।

প্রশ্ন- নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো বলুন-

সাঈদ সারোয়ার সাদী – লিডসাসের গবেষনা টিমের জরিপে দেখা গেছে, অনেকেই স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে আগ্রহী। আরও উঠে এসেছে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় যৌথ মালিকানাধীন কিংবা বড় পরিসরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন দুরূহ হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছে করলেই টিম লিডসাসের বিশ্বমানের আইসিটি পরিসেবা গ্রহণ করতে পারে। গ্রাহকদের মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে লিডসাসের বিশ্বমানের আইসিটি টিম ইন্টারনেট প্রটোকল সমর্থিত আধুনিক সিসি ক্যামেরা থেকে শুরু করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, ওয়েব বেইজড মার্কেটিং, বায়োমেট্রিক অ্যাটেন্ডেন্স সিস্টেমসহ সব ধরনের আধুনিক আইসিটি পরিসেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।লিডসাস এর বিশ্বমানের আইসিটি সাপোট প্রসঙ্গে রাজধানী ঢাকাস্থ প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ জনাব নাজির আহমদ বলেন- ”যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূণরূপে আধুনিকীকরণে টিম লিডসাসের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একইসাথে একাধিক আইটি পরিসেবা গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝক্কিঝামেলা এখন আর নেই বললেই চলে।’ আর নারায়নগন্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা পদ্ধতি ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা আমাদের দেশের জন্য অনেকটাই নতুন। অল্প কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করছেন আর আমাদের প্রতিষ্টানটিও লিডসাসের মাধ্যমেই নিরাপত্তায় ঢাকা বলে জানালেন নারায়ণগঞ্জের অন্যতম স্কুল চেরিশ বিদ্যানিকেতনের অধ্যক্ষ মোরশেদা হাসিনা।

প্রশ্ন – স্বপ্নের রেখা কতদূর বিস্তৃত-

সাঈদ সারোয়ার সাদী- সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, লিডসাস নিরাপত্তার পাশাপাশি রক্ষনাবেক্ষনের জন্যও আলাদা চিন্তা নিয়ে এগুচ্ছে।টিম লিডসাসের অন্যতম লক্ষ্য হলো—যথাযথ প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান করে উন্নত বিশ্বের মতো এদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চমানের আধুনিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। বাংলাদেশের সর্বস্তরে প্রযুক্তিগত সুবিধা পৌঁছে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশবাসীর পাশে থাকা। আপাতত ছোট লক্ষ্যে এগোচ্ছি, দোয়া চাই দেশবাসীর কাছে।

ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধে চাপ দেন হিলারি

নোবেল বিজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের তদন্ত বন্ধ করতে শেখ হাসিনার সরকারের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

হিলারি শুধু ব্যাক্তিগতভাবে নয় পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে লাগিয়ে এ চাপ দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অডিট করার হুমকি দিয়েছিলেন।

পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা জয়কে বারবার চাপ দিতে থাকেন যে, ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধে জয় তার মাকে রাজি না করালে যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের বিরুদ্ধেও অডিট করা হবে।

মার্কিন সিনেটে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান চার্লস গ্রাসলির এক চিঠি থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

গ্রাসলি এসব তথ্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বৃহস্পতিবার চিঠিটি দিয়েছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে অডিটের হুমকি দেয়ায় জন ডানিলোয়েজকে হাজির করতে টিলারসনকে বলেছেন গ্রাসলি। জন ডানিলোয়েজের সঙ্গে এ বিষয়ে কমিটির একজন স্টাফ কথা বলবেন।

চিঠিতে গ্রাসলি উল্লেখ করেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের একজন দাতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটন এবং তার স্টাফ ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের তদন্ত বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ওপর চাপ দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে তার মাকে রাজি করাতে ব্যর্থ হলে জয়ের বিরুদ্ধে আইআরএস অডিট করার হুমকি দেন।

গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেন যে, ২০১১ সালের মার্চে হিলারি ক্লিনটন তার অফিসে ফোন করে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করার দাবি জানান।

সম্প্রতি এ সংবাদ হয়েছে বলে উল্লেখ করে গ্রেসলি বলেন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে ডোনেশন দেয়ার বিনিময়ে ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল হিলারি ক্লিনটনের পররাষ্ট্র দফতর।

চিঠিতে গ্রাসলি বলেন, বিল ক্লিনটন আরকানসাসের গভর্ণর থাকাকালেই হিলারির সঙ্গে ইউনূসের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর থেকে কয়েক দশক ধরে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের প্রচারক ছিলেন ইউনূস।

তাকে ফাউন্ডেশনের অনেক অনুষ্ঠানে প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে। বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবে নোবেল কমিটির কাছে ইউনূসের পক্ষে লবিং করেন এবং ২০০৬ সালে ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের উল্লেখ করে গ্রাসলি বলেন, ইউনূসের বিভিন্ন কোম্পানি ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভকে এক লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান দিয়েছে।

ইউনূসের কোম্পানিগুলো ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে ২৫ হাজার ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত অনুদান দিয়েছে। হিলারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর হিলারি ও ইউনূসের মধ্যে সম্পর্ক গভীরতর হয়।

হিলারি ক্লিনটনের পররাষ্ট্র দফতর জনগণের ট্যাক্সের এক কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি তহবিল ইউনূসের ব্যবসায় দিয়েছে।

গ্রাসলি তার চিঠিতে আর উল্লেখ করেন যে, কিছু আইনি লংঘন এবং বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ সরকার ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক বোর্ড অব ডাইরেক্টরের পদ থেকে অপসারণ করে।

ওই সময়ে ইউনূসের সহযোগী- ক্লিনটন ফাউন্ডেশন, হিলারি ক্লিনটন, শেরিল মিলস এবং পররাষ্ট্র দফতরের অন্য স্টাফদের মধ্যে যে ই-মেইল চালাচালি হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, ইউনূসের তদন্তে মধ্যস্থতা করার মিলিত চেষ্টা হয়েছে।

ওই ই-মেইলগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশন ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ই-মেইলগুলোতে দেখা যায়, ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকের আয়োজন করার চেষ্টা করেছেন। গ্রাসলি তার চিঠির সঙ্গে ওই ই-মেইলসমূহ সংযুক্ত করে দিয়েছেন।

টিলারসনকে লেখা গ্রাসলির চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকবার আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় এটা স্মরণ করেন যে, তার সঙ্গে প্রত্যেক বৈঠকেই ইউনূসের তদন্তের বিষয়টি অনিবার্যভাবে উঠে এসেছে। তখন তিনি এই তদন্ত বন্ধ করে দেয়ার চাপ অনুভব করেন।

যাদের সঙ্গে জয়ের বৈঠক হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি, ড্যান মজিনা, বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান জন ডানিলোয়েজ এবং ইউএসএআইডির প্রশাসক রাজিব শাহ।

গ্রাসলি চিঠিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে তৎকালীন উপ প্রধান জন ডানিলোয়েজের দু’টি আলোচনার কথা উল্লেখ করেন, ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে তার মাকে রাজি করাতে না পারলে জয়ের বিরুদ্ধে আইআরএস অডিট করা হবে।

আফগানিস্তানে বিস্ফোরণে নিহত ৮০, তিন শতাধিক আহত

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: আফগানিস্তানে কাবুলের কূটনীতিকপাড়ায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৮০ জনে। এছাড়াও আহত হয়েছেন তিন শতাধিক।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, বুধবারের ওই বিস্ফোরণটি ঘটে জানবাক স্কয়ারের খুব কাছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায়িত্ব এখনো কোনো দল স্বীকার করেনি।

হামলার স্থানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির ব্যস্ততম জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। তা ছাড়া বেশ কিছু বিদেশি দূতাবাস সেখানে রয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই ছিল কাবুলের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা। ঘটনাস্থলে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা গেছে।

ফাতিমা কাজি নামে একজন স্থানীয় আলজাজিরাকে জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতই ভয়াবহ ছিল যে, আমার জানালার কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। এর আগে এমন বিকট শব্দ শুনিনি।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে বিজেপি নেতা আদভানি অভিযুক্ত

ষোড়শ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় লালকৃষ্ণ আদভানিসহ ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের বিচার শুরু হয়েছে।

ভারতের একটি বিশেষ আদালত মঙ্গলবার সাবেক বিজেপি প্রধান আদভানিসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

এর মধ্যে প্রবীণ বিজেপি নেতা মুরিলি মনোহর জোশি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতীও রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৯২ সালে ওই বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার জন্য হিন্দু উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করেছিল।

এর পরে এ নিয়ে দাঙ্গা প্রায় দুই হাজার মানুষ মারা যায়।

হিন্দুদের দাবি, মসজিদটি তাদের সবচেয়ে সম্মানিত দেবতা রামের জন্মস্থান এবং এটি ষোড়শ শতকে এক মুসলিম শাসক এখানকার হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে তার ওপর ওই মসজিদ নির্মাণ করেছেন।

ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সব সময়ই বলে আসছে পরিকল্পিতভাবে বাররি মসজিদটি ধ্বংস করা হয়।

গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর এ বিশেষ আদালত গঠন করা হয়। আদালত বলেছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে এ বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এছাড়া মঙ্গলবার আদালতে হাজির হওয়া ওই তিন বিজেপি নেতাকে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পর ২০১১ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে এ মামলাটি চলছে। আদালত বিতর্কিত জায়গাটির দুই-তৃতীয়াংশ হিন্দু গোষ্ঠীকে এবং অবশিষ্ট অংশ মুসলমানদের কাছে হস্তান্তরের রায় দিয়েছিল।

কিন্তু হিন্দুরা এ স্থানে একটি মন্দির নির্মাণ করতে চাচ্ছে আর মুসলমানরা চাচ্ছে একটি নতুন মসজিদ তৈরি করতে।

এ বছরের শুরুতে প্রধান বিচারপতি জে এস খেহার দুই সম্প্রদায়কে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান এবং দুপক্ষের মধ্যে মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাবও দেন।

দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ইতোমধ্যে মামলাটির অনেক বাদী মারা গেছেন।

ঘূর্ণিঝড় মোরা: কক্সবাজার-রাঙামাটিতে ৭ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে ও গাছ চাপা পড়ে কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাঁচজন ও রাঙামাটিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় তাণ্ডবলীলা শুরু করে বেলা ১২টা নাগাদ কুতুবদিয়া দিয়ে শেষ করেছে এর প্রস্থান।

এসময় থেমে থেমে ৮০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে আঘাত হানে মোরা। বাতাসের তোড়ে সাগর উত্তাল থাকলেও সকালে সাগরে ভাটা থাকায় ব্যাপক প্রাণহানী থেকে বেঁচে গেছেন কক্সবাজারবাসী।

কিন্তু এরপরও মোরার তাণ্ডবে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কক্সবাজার উপকূলের সোয়ালাখেরও বেশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর।

উপড়ে পড়েছে অগণিত গাছপালা। ব্যাপকহারে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়ি-ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে এবং ঘরের চালায় গাছ পড়ে কক্সবাজারে মারা গেছেন নারীসহ ৫ জন।

তারা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেডিঘাট এলাকায় বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওলা এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫), একই উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০), পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুল হাকিম সওদাগর (৫৫), এবং সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে শাহিনা আকতার (১০)। এসময় আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক লোকজন। তাদের জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার ভয়াবহতায় বসতঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে রাঙামাটি শহরে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছেন।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা মাহিমা (১৪) এবং অপর নারী হাজেরা বেগম (৪৫)। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে তাদের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু তৈয়ব মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তী এলাকায় বসত ঘরের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে গাছ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দ্জুনই মারা যায়। এছাড়া জুনায়েদ নামে এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বসতঘর ও রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ পালা। ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন কেবিল টিভির লাইন ও টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙামাটি শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

image missing image missing