সাকিব-রিয়াদের শতকে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

দলীয় ৩৩ রানে ৪ উইকেটের পতন পর দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ এ দুই ব্যাটসম্যান। ইতিমধ্যেই তারা পঞ্চম উইকেট জুটিতে শতরান পার করেছেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের ওপরই তাকিয়ে আছে টাইগার সমর্থকরা।

ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। টিম সাউদির করা দ্বিতীয় বলেই লেগ বিফোরের শিকার হন আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাব্বিরকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সাউদি। সাব্বির ৮ রান করেন। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে সৌম্য সরকারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাউদি। সৌম্য ৩ রান করেন। দলীয় ৩৩ রানে সাজঘরে ফিরেন টাইগার দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। তার বিদায়ের পর চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

শুক্রবার কার্ডিফে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে ম্যাচটি শুরু হয়।

টস জিতে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। মোসাদ্দেক এবং তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে কিউইরা।

টাইগারদের হয়ে প্রথম আঘাত হানেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ।

লুক রনকি ১৬ রান করে তাসকিনের বলে মোস্তাফিজের হাতে ধরা পড়েন। শুরু থেকেই ভয়ংকর ছিলেন মার্টিন গাপটিল। তবে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রুবেল হোসেনের বলে লেগ বিফোরের শিকার হন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর মিলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন। ব্যক্তিগত ৫৭ রান করে রান আউটের শিকার হন উইলিয়ামসন। এরপর নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তাসকিন। ভয়ংকর হয়ে ওঠা রস টেইলরকে মোস্তাফিজের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। টেইলর ৬৩ রান করেন।

এরপর বোলিং ক্যারিশমা দেখান মোসাদ্দেক। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই নেইল ব্রুম (৩৬) এবং কোরি এন্ডারসনকে (০) সাজঘরে ফেরত পাঠান মোসাদ্দেক।

এবার অলআউটের শংকা জাগে কিউই শিবিরের।রানের চাকা শ্লথ হয়ে আসে।

নিজের তৃতীয় ওভারে আবারো জিমি নিশামকে (২৩) নিজের শিকারে পরিণত করেন মোসাদ্দেক।

নিজের নবম ওভারে এসে অ্যাডাম মিলনেকে (৭) সরাসরি বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।

বোলাররা তাদের কাজ ঠিকভাবেই সম্পন্ন করেছে। এই ম্যাচে জয়ের জন্য এখন ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

জিতলে আশা টিকে থাকবে। আর হারলে বিদায় নিতে হবে। এমনই এক বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। টস জিতে প্রথমে তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ফিল্ডিংয়ে।

তিনটায় টস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সময়মতো টস হয়নি। আউটফিল্ড ভেজা থাকায় টসে হতে বিলম্ব হয়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি, মাছরাঙা ও স্টার স্পোর্টস ১।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), মার্টিন গাপটিল, লুক রনকি, রস টেলর, নেইল ব্রুম, জিমি নিশাম, কোরি অ্যান্ডারসন, মিচেল স্যান্টনার, অ্যাডাম মিলনে, টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট।

ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন কুশল মেন্ডিস ও দানুস্কা গুনাথিলাকা। ১৫৯ রানের দারুণ এক জুটি। দুইজনেই আউট হন দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে। এরপর কুশল পেরেরা ও অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের আরও একটি দারুণ জুটি। ৭৫ রান। তবে জুটিটা হয়তো আরও লম্বা হতে পারতো। দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন পেরেরা। তবে তাতেও ক্ষতি হয়নি শ্রীলঙ্কার। শেষ দিকে আসেলা গুনারাত্নে মারমুখী ব্যাটিং ও ম্যাথুজের অধিনায়কোচিত ইনিংসে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা। ভারতকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলো দলটি।

বৃহস্পতিবার ওভালে ভারতের দেওয়া ৩২২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন শুরু থেকেই সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকে শ্রীলঙ্কা। তবে লাভ হয়নি এতে। পঞ্চম ওভারে লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানেন ভুবেনেশ্বর কুমার। পয়েন্টে সহজ দিয়ে ফিরে যান নিরোশান ডিকভেলা। দলে তার অবদান ৭ রান। এরপর মেন্ডিস ও গুনাথিলাকার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ওভারপ্রতি প্রায় সাত গড়ে ১৫৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি গড়েছেন দুজনে। যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়েন গুনাথিলাকা। ভাঙে ভয়ংকর হয়ে ওঠা এই জুটি। ৭২ বলে ৭৬ রান করেছেন গুনাথিলাকা। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছয়। মেন্ডিস ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু ৮৯ রানে ভুবনেশ্বরের দারুণ থ্রোতে রানআউট হয়েছেন তিনিও। ২৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দশম হাফসেঞ্চুরি। ৯৩ বলের ইনিংসে ১১টি চারের সঙ্গে ১টি ছয় মেরেছেন মেন্ডিস।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর কুশল পেরেরার সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এ দুই ব্যাটসম্যান দারুণ ব্যাটিং করে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের পথে। গড়েছিলেন ৭৫ রানের জুটি। তবে ইনজুরিতে পড়লে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পেরেরা। ৪৪ বলে ৫টি চারে ৪৭ রানে থামেন তিনি।
এরপর অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে আসেন আসেলা গুনারাত্নে। উইকেটে এসেই মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন তিনি। অপরাজিত থেকে মাত্র ২১ বলে সমান সংখ্যক ২টি করে চার ও ছক্কায় করেন ৩৪ রান। ম্যাথুজ করেন অপরাজিত ৫২ রান। ৪৫ বলে ৬টি চারে গড়েন নিজের ইনিংসটি। অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। ফলে ৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইনিংসের প্রথম বলেই দারুণ এক চার মেরে ইনিংসের শুরু করে তারা। এরপর নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের রানের গতিতে লাগাম দিতে পারলেও উইকেট ফেলতে পারছিল না লঙ্কানরা। দারুণ দেখে শুনে ব্যাটিং করছিলেন দুই ড্যাশিং ওপেনার। ১০.২ ওভারে করেন দলীয় ফিফটি। আর ১৯.২ ওভারে করেন দলীয় শতরান। ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙ্গেন লাসিথ মালিঙ্গা। তবে তার আগেই ভারত পায় ১৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

ইনিংসের ২৫তম ওভারের পঞ্চম বলটি বাউন্সার দিয়েছেন মালিঙ্গা। হুক করতে গিয়েছিলেন রোহিত। তবে ব্যাট বলে ঠিক ভাবে সংযোগ ঘটাতে না পারায় লং লেগে পেরেরার তালুবন্দি হন তিনি। ৭৯ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৭৮ রান। পরের ওভারে কোহলিকে তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। নুয়ান প্রদিপের এক্সট্রা বাউন্সের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। উইকেটে নামেন যুবরাজ। তবে দ্রুত দুই উইকেট হারিনো ভারতের রানের গতিটা সচল রাখেন শিখর। তাদের বিদায়ের পর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এ ওপেনার। যুবরাজের সঙ্গে গড়েন ৪০ রানের জুটি। গুনারাত্নের বলে বোল্ড হয়ে যান যুবরাজ।

যুবরাজের বিদায়ের পর উইকেট আসেন ধোনি। দুইজনই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। শিখর তুলে নেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। ১১২ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করা শিখর শেষ পর্যন্ত ১২৮ বলে ১২৫ রান করেন। মালিঙ্গার বলে থামার আগে নিজের ইনিংসটি সাজান ১৫টি চার ও ১টি ছক্কায়। এর আগে ধোনির সঙ্গে গড়েন ৮২ রানের দারুণ এক জুটি। শিখর থামলেও অপর প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান ধোনি। শেষ ওভারে পেরেরার বলে থামার আগে ৫২ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় করেন ৬৩ রান। শেষদিকে কেদার যাদব করেন ২৫ রান। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে দলটি।

মাশরাফির ভাবনায় শুধুই নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো ছয়ে ওঠার গৌরব নিয়ে এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্টটা টাইগারদের মনের মতো হয়নি। ২ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১ পয়েন্ট। শুক্রবার কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। এ ম্যাচে জয় পেলেই কেবল বেঁচে থাকবে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা। তবে আপাতত শেষ চারে খেলা বিষয়ে কোনো চিন্তায় যেতে নারাজ মাশরাফি। কিউইদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ টাইগার অধিনায়ক।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানিয়েছেন, ‘গেল কয়েক বছরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা বেশিরভাগ ম্যাচেই জিতেছি। শুক্রবারের ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে সেরা ক্রিকেট খেলা। আর সেটা করতে পারলে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে না।’ পরিসংখ্যানও সমর্থন দিচ্ছে মাশরাফির কথাগুলোকে। মুখোমুখি লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ১৪ ওয়ানডের ৮টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। কিউইরা জিতেছে ৫টি ম্যাচ। বাকিটি হয়েছে পরিত্যক্ত। এই তো গেল মাসে দুদলের সর্বশেষ সাক্ষাতেও ডাবলিনে জিতেছিল টাইগাররা।

সেমিফাইনালে যেতে মাশরাফিদের শুধু নিউজিল্যান্ডকে হারালেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকেও। কামনা করতে অজিদের বিপক্ষে ইংলিশদের জয়। তবে সেসব জটিল সমীকরণ নিয়ে আপাতত মাথা ভারী করতে চান না ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। উপভোগ করতে চান মাঠের ক্রিকেট আর পেতে চান জয়ের স্বাদ, ‘আমরা ভালো খেলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে, সেমিফাইনালে না গেলেও বড় একটি টুর্নামেন্টে বড় একটি দলকে হারানোর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবো। আমাদের জন্য এটা দারুণ কিছু হবে। তাই শুধু নিজেদের ম্যাচটা নিয়েই চিন্তা করছি।’

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড

অামার ক্যাম্পাস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রেখেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে এবার ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল তারা। আর ফেবারিটদের মতই পারফরম্যান্স করেছে দলটি। নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকেট কাটে ইংলিশরা। ইংলিশদের ৮৭ রানের এ বড় জয়ে সেমিতে খেলার স্বপ্নটা জোরালো হলো বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া হারলে আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে শেষ চারে জায়গা করে নিবে টাইগাররা।

ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। মঙ্গলবার ইংলিশদের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই নামে বৃষ্টি। তবে ভাগ্য ভালো আধ ঘণ্টায় থেমেছে বর্ষণ। এরপর শুরু হয় খেলা। বৃষ্টির পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। জেক বলের বলে বোল্ড হয়ে যান লুক রনকি (০)।

এরপর অধিনায়ককে দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিল। ৬২ রানের জুটি গরেন তারা। এ জুটি ভাঙ্গেন স্টোকস। ব্যক্তিগত ২৭ রানে সাজঘরে ফিরে যান গাপটিল। এরপর স্বাগতিকদের কপালে ভাঁজ চওড়া করেন উইলিয়ামসন। রস টেইলরকে নিয়ে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে ৮৭ রানে তাকে থামান ক্রিস উড।

এরপর বেশি দূর এগুতে পারেননি টেইলরও। ব্যক্তিগত ৩৯ রানে ফিরে যান তিনি। আর টেইলরের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ফলে ৪৪.৩ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৫৫ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট পেয়েছেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। ২টি করে উইকেট পান বল ও রশিদ।

এর আগে ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ইংলিশরা ৪৯.৩ ওভারে ৩১০ রান করে অল আউট হয়। এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা নেহাত মন্দ করেনি ইংল্যান্ড। ৩৭ রানের ওপেনিং জুটির পর অ্যাডাম মিলনের বলে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ১৩ রান করে ফিরে যান জেসন রয়। এরপর ইনফর্ম জো রুট নেমে হেলসের সঙ্গে রুট দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তোলেন ৮১ রানের জুটি। ৫৬ রান করে হেলস মিলনের দ্বিতীয় শিকার হলেন। এই জুটি ভাঙার পর ইংলিশ অধিনায়ক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ইয়ন মরগান বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি।

সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অল-রাউন্ডার বেন স্টোকস জুটি বাঁধেন রুটের সঙ্গে। দুজন মিলে দারুণ বোঝাপড়ায় দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন আরো সামনে। কিন্তু ৩৪তম ওভারে কোরি অ্যান্ডারসন তার দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে ফেলেন রুটকে। ৬৫ বলে ২ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ৬৪ রান করে ফিরে যান তিনি। তাদের জুটি থেকে আসে ৫৪ রান।

রুটের বিদায়ের পর কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন স্টোকস। ফিফটির দুই রান আগে ট্রেন্ট বোল্টের শিকার তিনি। ৫ উইকেটে ২১০ রান তখন। ওভার চলছে ৩৮। ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শেষদিকেও অল-রাউন্ডার থাকেন বরাবর। মঈন আলি (১২), আদিল রশিদদের (১২) নিয়ে জস বাটলার ছুটে চলেন। শেষটায় এই বাটলারই টেনে নিয়ে গেছেন ইংলিশদের ইনিংস। লিয়াম পাঙ্কেটের সাথে ৪৯ রানের জুটি বাটলারের অষ্টম উইকেটে।

শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ডে তোলে ৮৯ রান। তবে শেষের ৫ ওভারে ঝড়টা কমে ৩২ রানের হয়েছে। আর একেবারে শেষটায় ৪ বলের মধ্যে ১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে অল আউট হয়েছে ইংলিশরা। ততক্ষণে অবশ্য লড়ার মতো পুঁজি পেয়ে গেছে তারা। কিউই বোলার মিলনে ও অ্যান্ডারসনের শিকার ৩টি করে উইকেট। ২ উইকেট টিম সাউদির। মিচেল স্যান্টনার ও বোল্ট নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

পারলোনা বাংলাদেশ

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: প্রথমে ব্যাট করে ব্যাটসম্যানরা এনে দিয়েছিলেন ৩০৫ রানের পুঁজি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেটা ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম বারের মতো ৩০০ পেরোনোর ঘটনাও। কিন্তু সেই পুঁজিও যথেষ্ট প্রমাণ করতে পারলেন না বোলাররা। জয় দূরের কথা, বিশাল এই পুঁজি নিয়েও ওভালে বাংলাদেশী বোলাররা ইংলিশদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারলেন না! বিশাল এই লক্ষ্য তাড়ায় ইংলিশরা হারালো মাত্র দুটি উইকেট। তার একটি শুরুতেই তুলে নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন অকেশনাল বোলার সাব্বির রহমান। তবে সেটা ম্যাচের মুঠো আলগা হয়ে যাওয়ার পর। তারপরও তো সুযোগ ছিল। কিন্তু মোস্তাফিজ, রুবেল, সাকিবরা মিলেও নিতে পারলেন না একটা উইকেট। ফল, ২ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ৪৭.২ ওভারেই পৌঁছে যায় লক্ষ্যে (৩০৮/২)। যার অর্থ, নিজেদের ঘরের মাটির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুটা ইংলিশরা করল ৮ উইকেটের অনায়াস জয়ে।

২.৪ ওভার বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের জয়, অনায়াস না তো কী! অথচ বাংলাদেশ ইনিংস শেষে জয়ের স্বপ্নটাই দেখতে শুরু করেছিল দেশবাসী। ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম বারের মতো ৩০০ পেরোনো স্কোর গড়ার পর জয় স্বপ্ন তো দেখাই যায়। কিন্তু সেই জয় স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে বোলাররা যে এক যুগে এমন নিষ্প্রভ থাকবেন, সেটা কে জানত! সীমিং কন্ডিশনেও রুবেল-মোস্তাফিজরা কোনো উইকেট পাবেন না, সেটা ইনিংসের শুরুতে বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তবতা।

৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংলিশ শিবিরে শুরুতেই আঘাত হেনেছিলেন মাশরাফি। মাত্র ১ রানেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জেসন রয়কে। কিন্তু বাংলাদেশের শুরুর সেই উইকেট প্রাপ্তির আনন্দকে ওভালের পিচের নিচে চাপা দিয়ে অ্যালেক্স হেলস ও জো রুট দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১৫৯ রানের জুটি। এই জুটিতেই মূলত বাংলাদেশের হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে যায় ম্যাচ। তবে তারপরও একটা সুযোগ ছিল। শেষ দিকে বোলাররা জ্বলে উঠতে পারলে জয় তখনো অসম্ভব ছিল না। কারণ জয়ের জন্য ইংলিশদের তখনো দরকার ছিল ১৩১ রান। ওভার ছিল ২২টি। কিন্তু বাংলাদেশ নিতে পারলো না আর একটা উইকেটও।

ও হ্যাঁ, মাশরাফির বলেই মরগানের একটা ক্যাচ নিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। মরগান তখন ৯ রানে দাঁড়িয়ে। ক্যাচটা হলে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ার মরগানকে থামিয়ে ক্যাচটির বৈধতা পরীক্ষা করতে ইঙ্গিত করলেন টিভি আম্পায়ারকে। রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার জানিয়ে দিলেন, তামিম ক্যাচটি হাতে জমানোর আগে বল মাটি স্পর্শ করেছে। সুতরাং মরগান নট আউট! আম্পায়ারের সেই সিদ্ধান্ত খুব ভালো মনে মেনে নেননি তামিম। তার প্রতিবাদও তিনি করেছেন। কিন্তু তাতে ইংলিশদের বয়েই গেছে!

৯ রানে ভাগ্য গুণে বেঁচে যাওয়া সেই মরগান খেলেছেন অপরাগিত ৭৫ রানের ইনিংস। সেঞ্চুরি করা জো রুটের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ১৩৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। রুটকে সঙ্গী করে মাঠ ছেড়েছেন জয়ের হাসি হাসতে হাসতে। হেলস ৯৫ রানে ফিরে গেলেও রুট ঠিকই তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দশম এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৩৩ রানে। ১ ছক্কা ১১ চারে ১২৯ বলে তার সেই ইনিংস তাকে এনে দিয়েছে ম্যাচসেরার পুরস্কারও। তাতে ভেস্তে গেছে বাংলাদেশ ওপেনার তামিমের ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি।

এর আগে টস জিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে প্রথম ব্যাটিংয়ে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি ‍ও মুশফিকুর রহীমের ৭৯ রানের ইনিংসে চড়ে বাংলাদেশ গড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সর্বোচ্চ রানের পুঁজি। ক্যারিয়ারের ৯ম ও ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা তামিম খেলেছেন ১৪২ বলে ১২৮ রানের ইনিংস। যে ইনিংসটিতে ছিল ৩টি ছক্কার সঙ্গে ১২টি চারের মার। মুশফিকের ৭২ বলের ইনিংসে চারের মার ছিল ৮টি।

তামিম-মুশফিক মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ১৬৬ রানের জুটি। যেটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। তবে রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়ার পর দুজনে আউট হন যুগপত। পরপর তারা আউট না হলে দলের সংগ্রহটা আরও বাড়তে পারতো। তবে যা করেছিল সেটাও কম না। কিন্তু বোলাররা যে করতে পারলেন না কিছুই।

ইংল্যান্ডকে ৩০৬ রানের টার্গেট দিল টাইগাররা

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: মর্যাদাকর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ইংলিশদের জয়ের লক্ষ্য ৩০৬।

বাংলাদেশের পক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তামিম ১৪২ বলে ১২ টি চার ও ৩টি বিশাল ছয়ে ১২৮ রান করেন। তামিম ছাড়াও টাইগারদের হয়ে মুশফিকুর রহিম ৭৯, সৌম্য সরকার ২৮, সাব্বির রহমান ২৪ রান সংগ্রহ করেছেন।

ইংল্যান্ডের পক্ষে লিয়াম প্লাঙ্কেট ৪ টি , স্টোকস ও বল ১ টি করে উইকেট লাভ করেন।

ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওভাল ক্রিকেট গ্রাউন্ড মাঠে ম্যাচটি খেলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

ইংল্যান্ড দল: এলেক্স হেলস, জেসন রয়, জো রুট, ইয়ন মরগান, বেন স্টোকস, জশ বাটলার, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, মার্ক উড, জ্যকসন বল।

তামিম-মুশফিকে এগুচ্ছে টাইগাররা

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক:চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগুচ্ছে বাংলাদেশ।

২৮ তম ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ১৫০ রান।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ৭১ রান করে ক্রিজে রয়েছেন। অপর প্রান্তে মুশফিকুর রহিম ২৯ রানে ব্যাট করছেন।

টাইগারদের দলীয় ৫৬ রানে বিদায় নিন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

৩৪ বলে ব্যক্তিগত ২৮ রান করে বেন স্টোকসের বলে ক্যাচ হয়ে সাঁজঘরে ফেরেন তিনি।

ওয়ান ডাউনে নামা ইমরুল কায়েস ২০ বলে ১৯ রান করে আউট হন।

এরআগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক সূচনা করেছে টাইগাররা।

১ম ১০ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে বিনা উইকেটে ৩৬ রান।

ওভালে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায় ইংলিশ অধিনায়ক।

এ ম্যাচটি দুদলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এম্যাচে জিতলে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে যাবে সে দল।

বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছেন ইমরুল কায়েস। আর বাদ পড়েছন মেহেদী মিরাজ।

৮৪ রানেই গুটিয়েছে টাইগাররা

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের কাছে ২৪০ রানের বিশাল ব্যাবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৩২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

অথচ মাত্র একদিন আগেই বার্মিংহামের এজবাস্টনে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪১ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য রোমাঞ্চকর ওই ম্যাচে ২ উইকেটে হেরেছে টাইগাররা।

ভারতের বেঁধে দেয়া ৩২৫ রানের বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার অনেকটা সতর্ক সূচনার চেষ্টা করলেও ৫ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য। দলীয় ১১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত মাত্র ২ রান করে উমেশ যাদবের বলে দিনেশ কার্তিকে হাতে ধরা পড়েন তিনি।

একই ওভারের পঞ্চম বলে ব্যক্তিগত শূন্য রানেই বোল্ড হন সাব্বির রহমান।

পরের ওভারেই ইমরুল কায়েসও ভুবনেশ্বর কুমারের বলে সেই উমেশ যাদবের হাতেই ধরা পড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ১৭ বলে মাত্র ৭ রান। তখনও দলীয় স্কোর ১১ তে-ই আটকে ছিল।

স্কোরটা দ্বিগুণ হতেই উইকেটর সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়ে যায়। দলীয় ২২ রানের মাথায় ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সপ্তম ওভারে তৃতীয় ও পঞ্চম বলে ভুবনেশ্বর কুমারের শিকার হন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

ভুবনেশ্বর কুমারের একটি বাউন্সার পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান সাকিব। এরপর উইকেটকিপার দিনেশ কার্তিকের দারুণ এক ক্যাচে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ।

পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরেন মোসাদ্দেক হোসেন। উমেশ যাদবের তৃতীয় শিকার হন তিনি।

মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলকে লজ্জা থেকে বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু দলীয় ৪৭ রানের মাথায় মোহাম্মদ সামির বলে রবীন্দ্র জাদেজার তালুবন্দি হন মুশফিক (১৩)।

এরপর দলীয় ৭৭ রানে সর্বোচ্চ ২৪ রান করা মিরাজ সাজঘরে ফিরলে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি তার সঙ্গী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করা সানজামুল ইসলাম।

শেষ পর্যন্ত হার্দিক পান্ডিয়ার বলে রুবেল হোসেন (০) আজিঙ্কা রাহানের তালুবন্দি হলে ২৩.৫ ওভারে মাত্র ৮৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

ভারতের হয়ে উমেশ যাদব আর ভুবেনেশ্বর কুমার ৩টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দিনেশ কার্তিক (৯৪), হার্দিক পান্ডিয়া (৮০) আর শিখার ধাওয়ানের (৬০) ব্যাটে ৭ উইকেটে ৩২৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় টিম ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার কেনিংটন ওভালে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের এই প্রস্তুতি ম্যাচের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

আগামী ১ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

ঘূর্ণিঝড় মোরা: কক্সবাজার-রাঙামাটিতে ৭ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে আতঙ্কিত হয়ে ও গাছ চাপা পড়ে কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাঁচজন ও রাঙামাটিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় তাণ্ডবলীলা শুরু করে বেলা ১২টা নাগাদ কুতুবদিয়া দিয়ে শেষ করেছে এর প্রস্থান।

এসময় থেমে থেমে ৮০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে আঘাত হানে মোরা। বাতাসের তোড়ে সাগর উত্তাল থাকলেও সকালে সাগরে ভাটা থাকায় ব্যাপক প্রাণহানী থেকে বেঁচে গেছেন কক্সবাজারবাসী।

কিন্তু এরপরও মোরার তাণ্ডবে ঝড়ো ও দমকা হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে কক্সবাজার উপকূলের সোয়ালাখেরও বেশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি-ঘর।

উপড়ে পড়েছে অগণিত গাছপালা। ব্যাপকহারে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে পড়ায় পুরো কক্সবাজারে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়ি-ঘর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এসময় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় আতঙ্কিত হয়ে এবং ঘরের চালায় গাছ পড়ে কক্সবাজারে মারা গেছেন নারীসহ ৫ জন।

তারা হলেন, কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং জেডিঘাট এলাকায় বদিউল আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৫৫), চকরিয়ার বড়ভেওলা এলাকার মৃত নূর আলম সিকদারের স্ত্রী সায়েরা খাতুন (৬৫), একই উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব জুমখালী এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (৫০), পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের নতুন ঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুল হাকিম সওদাগর (৫৫), এবং সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের শাহাজাহানের মেয়ে শাহিনা আকতার (১০)। এসময় আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক লোকজন। তাদের জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরার ভয়াবহতায় বসতঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে রাঙামাটি শহরে এক স্কুলছাত্রী ও অপর এক নারী নিহত হয়েছেন।

নিহত স্কুলছাত্রীর নাম জাহিদা সুলতানা মাহিমা (১৪) এবং অপর নারী হাজেরা বেগম (৪৫)। রাঙামাটি সদর হাসপাতালে তাদের নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু তৈয়ব মৃত ঘোষণা করেন।

সকালে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে শহরের ভেদভেদী ও আসামবস্তী এলাকায় বসত ঘরের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়লে গাছ চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দ্জুনই মারা যায়। এছাড়া জুনায়েদ নামে এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে। তিন ঘণ্টাব্যাপী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙামাটি শহরের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

বসতঘর ও রাস্তার ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ পালা। ক্ষতি সাধিত হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন কেবিল টিভির লাইন ও টেলিফোন লাইন ও মোবাইল টাওয়ারের বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাঙামাটি শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

image missing image missing