ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক: দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন কুশল মেন্ডিস ও দানুস্কা গুনাথিলাকা। ১৫৯ রানের দারুণ এক জুটি। দুইজনেই আউট হন দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে। এরপর কুশল পেরেরা ও অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের আরও একটি দারুণ জুটি। ৭৫ রান। তবে জুটিটা হয়তো আরও লম্বা হতে পারতো। দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন পেরেরা। তবে তাতেও ক্ষতি হয়নি শ্রীলঙ্কার। শেষ দিকে আসেলা গুনারাত্নে মারমুখী ব্যাটিং ও ম্যাথুজের অধিনায়কোচিত ইনিংসে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা। ভারতকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখলো দলটি।

বৃহস্পতিবার ওভালে ভারতের দেওয়া ৩২২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এদিন শুরু থেকেই সাবধানী ব্যাটিং করতে থাকে শ্রীলঙ্কা। তবে লাভ হয়নি এতে। পঞ্চম ওভারে লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানেন ভুবেনেশ্বর কুমার। পয়েন্টে সহজ দিয়ে ফিরে যান নিরোশান ডিকভেলা। দলে তার অবদান ৭ রান। এরপর মেন্ডিস ও গুনাথিলাকার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ওভারপ্রতি প্রায় সাত গড়ে ১৫৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি গড়েছেন দুজনে। যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটে কাটা পড়েন গুনাথিলাকা। ভাঙে ভয়ংকর হয়ে ওঠা এই জুটি। ৭২ বলে ৭৬ রান করেছেন গুনাথিলাকা। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছয়। মেন্ডিস ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু ৮৯ রানে ভুবনেশ্বরের দারুণ থ্রোতে রানআউট হয়েছেন তিনিও। ২৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দশম হাফসেঞ্চুরি। ৯৩ বলের ইনিংসে ১১টি চারের সঙ্গে ১টি ছয় মেরেছেন মেন্ডিস।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর কুশল পেরেরার সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এ দুই ব্যাটসম্যান দারুণ ব্যাটিং করে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়ের পথে। গড়েছিলেন ৭৫ রানের জুটি। তবে ইনজুরিতে পড়লে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পেরেরা। ৪৪ বলে ৫টি চারে ৪৭ রানে থামেন তিনি।
এরপর অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে আসেন আসেলা গুনারাত্নে। উইকেটে এসেই মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন তিনি। অপরাজিত থেকে মাত্র ২১ বলে সমান সংখ্যক ২টি করে চার ও ছক্কায় করেন ৩৪ রান। ম্যাথুজ করেন অপরাজিত ৫২ রান। ৪৫ বলে ৬টি চারে গড়েন নিজের ইনিংসটি। অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটসম্যান। ফলে ৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইনিংসের প্রথম বলেই দারুণ এক চার মেরে ইনিংসের শুরু করে তারা। এরপর নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের রানের গতিতে লাগাম দিতে পারলেও উইকেট ফেলতে পারছিল না লঙ্কানরা। দারুণ দেখে শুনে ব্যাটিং করছিলেন দুই ড্যাশিং ওপেনার। ১০.২ ওভারে করেন দলীয় ফিফটি। আর ১৯.২ ওভারে করেন দলীয় শতরান। ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙ্গেন লাসিথ মালিঙ্গা। তবে তার আগেই ভারত পায় ১৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

ইনিংসের ২৫তম ওভারের পঞ্চম বলটি বাউন্সার দিয়েছেন মালিঙ্গা। হুক করতে গিয়েছিলেন রোহিত। তবে ব্যাট বলে ঠিক ভাবে সংযোগ ঘটাতে না পারায় লং লেগে পেরেরার তালুবন্দি হন তিনি। ৭৯ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৭৮ রান। পরের ওভারে কোহলিকে তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। নুয়ান প্রদিপের এক্সট্রা বাউন্সের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। উইকেটে নামেন যুবরাজ। তবে দ্রুত দুই উইকেট হারিনো ভারতের রানের গতিটা সচল রাখেন শিখর। তাদের বিদায়ের পর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এ ওপেনার। যুবরাজের সঙ্গে গড়েন ৪০ রানের জুটি। গুনারাত্নের বলে বোল্ড হয়ে যান যুবরাজ।

যুবরাজের বিদায়ের পর উইকেট আসেন ধোনি। দুইজনই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। শিখর তুলে নেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। ১১২ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করা শিখর শেষ পর্যন্ত ১২৮ বলে ১২৫ রান করেন। মালিঙ্গার বলে থামার আগে নিজের ইনিংসটি সাজান ১৫টি চার ও ১টি ছক্কায়। এর আগে ধোনির সঙ্গে গড়েন ৮২ রানের দারুণ এক জুটি। শিখর থামলেও অপর প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান ধোনি। শেষ ওভারে পেরেরার বলে থামার আগে ৫২ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় করেন ৬৩ রান। শেষদিকে কেদার যাদব করেন ২৫ রান। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে দলটি।