পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটালো ড্রিম মোমেন্ট

সুশান্ত বসাক,অামার ক্যাম্পাস: ‘ছবি তুলে দিবো আমরা, ঈদে নতুন জামা পাবে পথশিশুরা’ – এমন শিরোনামই বেছে নিয়েছিলো ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম মোমেন্ট’। বিষয়টা একটু অপ্রচলিত ও ভিন্ন মনে হলেও ঠিক এরকমই একটি উদ্যোগ নেয় ড্রিম মোমেন্ট। আমরা যেমনটা সবসময় বলে থাকি, যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসলেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এরকম এক চিন্তা থেকেই তারা এগিয়ে আসে তাদের ক্যামেরাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে ৮, ৯ ও ১০ জুন রমনা পার্কে। তাদের আইডিয়াটা ছিলো এরকম যে, সবসময় তো নিজেদের জন্য, জীবিকার জন্য ছবি তুলেই থাকি। এবার না হয় একটু তাদের জন্যই ছবি তুলি যারা এই সমাজে অবহেলিত, যাদের কাছে ঈদও একটি সাধারণ দিনের মতই। যেই চিন্তা সেই কাজ! ফেসবুকে প্রচারণা শুরু হলো। যে কেউ নিজের ছবি তোলাতে পারবে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে যে কোন পরিমাণ টাকার বিনিময়ে, হোক সেটা ১০০ টাকা বা ১০০০ টাকা। যার যেমন সামর্থ্য সে তেমন টাকাই দিবে পথশিশুদের জামা কেনার জন্য। সময়মত ছবিও পেয়ে যাবে ই-মেইলের মাধ্যমে। শুধু যে পরিচিত মানুষরা সাড়া দিয়েছে তা নয়, অনেক অপরিচিত মানুষরাও এসেছে মানবিকতার তাগিদে, ঈদের আনন্দটুকু ভাগ করে দিতে।

ব্যাপারটা সত্যিই অসাধারণ! যে কোন মানুষ যে চাইলেই যে কোন জায়গা থেকে ভালো কাজ করতে পারে, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘ড্রিম মোমেন্ট’ এর এই অভিনব উদ্যোগ। থাকতে হবে শুধু প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও ভাল কাজ করার মন-মানসিকতা। তবেই না আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমরা করবো জয় একদিন।

গত ১৫ই জুন, বৃহস্পতিবার ঢাকার পলাশীর মোড়ে ফুটপাতে বসবাসকারী অসহায় ৬০ জন পথশিশুদের মাঝে তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা বিতরণ করে। ড্রিম মোমেন্ট টিমের সবাই মিলে এই সম্পূর্ণ ক্যাম্পেইনটি পরিচালনা করে।

ড্রিম মোমেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ফটোগ্রাফার সৈয়দ মেহেদী হাসান বলেন, আমরা যখন এই ক্যাম্পেইনটি পরিকল্পনা করি তখন ভেবেছিলাম হয়তো ৩০ জন পথশিশুকে আমরা নতুন জামা দিতে পারবো, হয়তো মানুষ তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আসতে চাইবে না কিন্তু আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত। আর একইসাথে পরিকল্পনার চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক পথশিশুদের নতুন জামা দিতে পেরে আমরাও আনন্দিত। যেন এটাই আমাদের ঈদের খুশি।

তারা বিশ্বাস রাখে এভাবেই তারা সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি সংখ্যক মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে, অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে। এরকম আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা এই দেশটাকে বদলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চান। এভাবেই যদি প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে মানুষের জন্য এগিয়ে আসে তবেই মানুষের মধ্যকার বৈষম্য দূর হয়ে একটা সোনার বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে।